ছুটির দিনটা আরাম-আয়েশেরই বটে। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার সুযোগ মেলে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকায় চোখ রাখা যায়, কোনো তাড়া নেই। তবে ছুটির দিনটাকে একটু নির্মল ও স্বাস্থ্যপ্রদ করে তোলা যায় কি না ভেবে দেখুন। সারা সপ্তাহ স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে পারেননি, তাতে কী? ছুটির দিনটার সদ্ব্যবহার করুন, শুধু টিভি দেখে আর শুয়ে-বসে সময় না কাটিয়ে শখের কোনো কাজে মনোযোগ দিন। তাতে শরীর ও মন—দুয়েরই খোরাক মেটে। দু-একটা উদাহরণ দিই। বাগান: শহুরে আবাসেও প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে আজকাল অনেকে বারান্দায় বা ছাদে বাগান করছেন। এতে শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম যেমন হয়, তেমনি মনেও আসে প্রশান্তি। টবে বা বাগানে আগাছা পরিষ্কার করা, শুকনো পাতা কুড়ানো, চারা লাগানো ইত্যাদি কাজে ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৪০০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব। বাগানে পানি দিতে খরচ হবে আরও ৬০ থেকে ১০০ ক্যালরি। একটু বেশি কাজ হবে যদি মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করেন। সুফল পেতে বাগানে আপনাকে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট টানা কাজ করতে হবে। এটা আধঘণ্টা ব্যায়ামাগারে অ্যারোবিক শরীরচর্চার সমান। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাগানে কাজ করলে ওজন হ্রাসের পাশাপাশি মাংসপেশি ও হাড়ের ফিটনেস বাড়ে, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ব্যায়াম হয় এবং মানসিক চাপ কমে। সাঁতার: ছুটির দিনে সন্তানদের নিয়ে সাঁতার কাটতে পারেন। এ জন্য সাঁতারের কোনো ক্লাব বা নির্ধারিত জায়গায় যেতে পারেন। সাঁতার শুধু শারীরিক ব্যায়ামই নয়, এটি মনকেও ফুরফুরে করে। এক ঘণ্টা ফ্রিস্টাইল দ্রুত সাঁতার কাটলে ৪৯০ ক্যালরি খরচ হয়, ধীরে সাঁতার কাটলে খরচ হয় ৪১৫ ক্যালরির মতো। সাঁতারে দেহের ওজন বহন করতে হয় না বলে কোমর বা হাঁটুর সমস্যার রোগীদের জন্য এটা চমৎকার ব্যায়াম। প্রায় প্রতিটি মাংসপেশির ব্যায়াম হয় এতে। পাশাপাশি হদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও বাড়ে। সপ্তাহে এক বা দুই দিনের সাঁতারেও যথেষ্ট উপকার মেলে।
সাইকেল চালনা: বাইসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন। বাড়ির আশপাশে বা পার্কের রাস্তায় কয়েক চক্কর দিয়ে আসুন ছেলেমেয়েদের নিয়ে। ১৫ মাইল বেগে এক ঘণ্টা সাইক্লিং করলে ৫৯০ থেকে ৯০০ ক্যালরি খরচ করা সম্ভব। এ ছাড়া সাইক্লিং করলে হাড়ের জোড়ার ব্যথা বা সমস্যা কমে, ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে। অনভ্যস্তরা প্রথমে ধীরে এবং ১৫ মিনিট করে সাইক্লিং শুরু করুন। প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে সময় ও গতি বাড়ান। শিশু-কিশোরদের জন্য সাইক্লিং খুব ভালো অভ্যাস। তবে মাথায় অবশ্যই হেলমেট পরে নিতে হবে। আর ব্যস্ত গাড়ির রাস্তা এড়িয়ে চলবেন।
যোগব্যায়াম: আজকাল অনেক জায়গায় যোগব্যায়াম বা ইয়োগার ক্লাস বসে। ইয়োগার সিডি বা ডিভিডিও কিনতে পাওয়া যায়, যা দেখে বাড়িতেও এই ব্যায়াম করা সম্ভব। নানা ধরনের যোগব্যায়াম আছে—একেকটার উপকারিতা একেক রকম। সাধারণভাবে আধঘণ্টা যোগব্যায়াম করে ১২০ থেকে ১৫০ ক্যালরি খরচ করা যায়। কিন্তু যোগব্যায়ামের সুফল কেবল ওজন কমানোর ক্ষেত্রেই নয়, মনের চাপ কমানো, শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথা নিরাময়, বিষণ্নতা ও উদ্বেগ সামলানো, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো উপকারও মেলে এতে। ছুটির বিকেলে এক ঘণ্টার ইয়োগা ক্লাস আপনাকে সারা সপ্তাহ ভালোভাবে কাটানোর প্রস্তুতি জোগাতে পারে। ডা. তানজিনা হোসেন হরমোন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ
সুত্রঃ প্রথম আলো
2014 Powered By Wordpress, Goodnews Theme By Momizat Team