ত্বকের পরিচ্ছন্নতা ও সজীবতা ফিরিয়ে আনতে অনেকেই মাসে একবার ফেসিয়াল করান। এ কাজের মাধ্যমে নতুন কোষ জন্মায় ত্বকে। ফেসিয়ালে গায়ের রং উজ্জ্বল হয়ে যাবে, বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। বরং ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করানোটাই এর মূল উদ্দেশ্য। সকালে ও রাতে ভালোমতো মুখমণ্ডল ধুলে ময়লা দূর হয় অনেকটাই। মুখের পরিচর্যা নিয়মিত করলে পরবর্তী সময়ে বা বয়স বাড়লে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলেও অনেক সময় ভেতরের ময়লা একদম ভেতর থেকে বের হয় না। এ কারণে দরকার হয় পেশাগত ফেসিয়ালের।
ফেসিয়ালের উপকারিতাব্রণ ও দাগ কমাতে সহায়তা করে
বলিরেখা কমায়
রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে
ব্ল্যাকহেডস দূর করে
ফেসিয়াল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে
ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে
ফেসিয়ালের অপকারিতা
ফেসিয়াল করার সময় যদি দেখেন, খুব জোরে চাপ দিয়ে ত্বকের ওপর মালিশ করা হচ্ছে, তাহলে তা বন্ধ করতে বলুন। এ ছাড়া ব্ল্যাকহেডস ওঠানোর সময় যেই ব্রণস্টিকটি ব্যবহার করা হয়, সেটি শতভাগ জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। অনেকের ব্রণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা যেতে পারে। ক্রিমের ভারী প্রলেপ দিয়ে মালিশ করার কারণে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে অ্যালার্জি বা র্যাশ হতে পারে। এমনটাই জানালেন শারমীন কচি। ফেসিয়াল করার পর, ত্বকে স্ক্রাবিং করা যাবে না। ওয়াক্সিং ও থ্রেডিং না করলেই ভালো। অন্তত ২৪ ঘণ্টা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যাবে না।
বয়স অনুযায়ী ফেসিয়াল
২৫-৩০ বছরের আগে ফেসিয়াল করা ঠিক না, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ফেসিয়াল আমাদের ত্বককে পরিষ্কার ও টান টান রাখে। তাই নিয়মিত ফেসিয়াল করলে বয়সজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে কম বয়স থেকেও ফেসিয়াল করানো যায়। কিন্তু ট্রিটমেন্ট আছে, এমন ফেসিয়ালগুলো একটু বয়স হলেই করানো ভালো।
রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান এ বিষয়ে একবার বলেছিলেন, কিশোরী ত্বকে ময়লা জমে। ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। তখন ডিপ ক্লিন ফেসিয়াল করা যেতে পারে। ১৫ বছর থেকেই এটা শুরু করা যেতে পারে। এতে ভেতরের ময়লা চলে আসে। ক্রিমের সাহায্যে মালিশ করা হয়। এরপর স্ক্রাব ব্যবহার করা হয়। প্রথম দিকে ভারী কোনো ফেসিয়াল না করাই ভালো। ফেসিয়াল করানোর সময় কোনো যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা যাবে না। মাসে একবার ফেসিয়ালই যথেষ্ট। ট্রিটমেন্ট ফেসিয়ালগুলো ত্বক বুঝে ব্যবহার করতে হবে। একেকটি ফেসিয়াল একেকটি সমস্যা সমাধানের জন্য। ত্বকে ব্রণ হলে ১৫ দিন পরপর ফেসিয়াল করা যেতে পারে। রূপবিশেষজ্ঞ শারমীন কচি জানান, ২০ বছরের আগে ভারী বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, এমন ফেসিয়াল না করানোই ভালো।
কোন ধরনের ফেসিয়াল কখন
সুন্দর ও সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজন ত্বকের সঠিক পরিচর্যা। আর ত্বক পরিষ্কার রাখতে ফেসিয়ালের কোনো বিকল্প নেই। তবে আমরা অনেকেই জানি না কোন ফেসিয়ালটি আমাদের ত্বকের জন্য প্রয়োজন এবং এর সঠিক নিয়ম কী। আমাদের ত্বক অনেক সংবেদনশীল। তাই না জেনে ফেসিয়াল করা একদমই ঠিক না।
অনেকেরই ধারণা একবার ফেসিয়াল করেই ফর্সা হয়ে যাবে। আসলে ফেসিয়াল মানুষকে ফর্সা করে না, ত্বক সুস্থ ও পরিষ্কার রাখে। তবে কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বককে পরিষ্কার করে আর কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বকের সমস্যা সমাধান করে।
জেনে নিন কোন ধরনের ত্বকে কেমন ফেসিয়াল করা প্রয়োজন-
এ সম্পর্কে রেড বিউটি সেলুনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা পারভিন বলেন, অনেকেরই ধারণা একবার ফেসিয়াল করেই ফর্সা হয়ে যাবে। আসলে ফেসিয়াল মানুষকে ফর্সা করে না, ত্বক সুস্থ ও পরিষ্কার রাখে। তবে কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বককে পরিষ্কার করে আর কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বকের সমস্যা সমাধান করে।
গ্লোল্ড ফেসিয়াল
মূলত মধ্য বয়সী নারীদের জন্য এই ফেসিয়াল বেশ কার্যকর। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে নারীদের ত্বকে একটু হলুদ আভা থাকে। আর এই ফেসিয়াল এ ধরনের ত্বকে উজ্জ্বল ভাব আনে। ত্বকের পুরোনো লাবণ্য, উজ্জ্ব্বলতা ফিরিয়ে আনতে গোল্ড ফেসিয়ালের জুড়ি নেই।
পার্ল ফেসিয়াল
পার্ল ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্য প্রযোজ্য, তবে স্পর্শকাতর ত্বকে এই ফেসিয়াল বেশ কার্যকর। একটু বয়স বেশি হলে পার্ল ফেসিয়াল করা উচিত। পার্ল ফেসিয়াল করার পর ত্বকে অফহোয়াইট একটা আভা আসে এবং অনেক দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
অ্যালোভেরা ফেসিয়াল
অতিরিক্ত শুষ্ক, রাফ বা সেনসেটিভ ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা ফেসিয়াল অনেক উপকারী। এটি ব্রণের সমস্যা দূর করে, সানবার্ন ভালো করে, সেই সঙ্গে বয়সের ছাপও লুকিয়ে ফেলে। ত্বকের পরিচর্যার জন্যও অ্যালোভেরা ফেসিয়াল বেশ কার্যকর।
অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল
অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, যাদের রিঙ্কেল পরার সম্ভাবনা খুব বেশি তারা এই ফেসিয়াল করবেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ভাঁজ পড়া বা ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যা তৈরি হয়। অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল এসব সমস্যা সমাধান করে আপনার ত্বকে মসৃণতা ফিরিয়ে আনবে।
স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল ওজন বাড়লে, গর্ভাবস্থা বা বয়সজনিত কারণে আমাদের মুখের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে ত্বক ঝুলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে ত্বকের টানটান ভাব কমে যায়। এ ক্ষেত্রে স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল খুবই উপকারী।
অ্যারোমা ফেসিয়াল
অ্যারোমা ফেসিয়াল বিয়ের কনেদের জন্য কার্যকরী। অর্থাৎ যাঁরা কিছু দিন পর বিয়ের কনে সাজতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য এই ফেসিয়াল উপযোগী এবং এই ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
পিম্পেল ফেসিয়াল
এই ফেসিয়াল তৈলাক্ত ত্বকের এবং ব্রনে আক্রান্তদের জন্য উপকারী। বড় ছোট সবাই এটা করতে পারেন। নিয়মিত মাসে দুবার এই ফেসিয়াল করলে পিম্পেল আস্তে আস্তে কমে আসবে।
ফ্রূট ফেসিয়াল
বিভিন্ন ফলের ফেসিয়াল আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী যাকে আমরা সাধারণত ফ্রুট ফেসিয়াল বলে থাকি। এই ফেসিয়ালে যে মিক্সড ফ্রুট ক্রিম ব্যবহার করা হয় তা সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো। বিশেষ করে ফ্রুট ফেসিয়াল ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে। ত্বক টান টান রাখে।
সূত্রঃ প্রথম আলো ও তথ্য বাতায়ন
2014 Powered By Wordpress, Goodnews Theme By Momizat Team