খেপা বর্ষার মত বৃষ্টি নেমেছে। জলে টলমল চারদিক। মাঠের ঘাসগুলোর ডুবোডুবো অবস্থা। হুলো এক ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে গাছের নিচে। শ্যাওলা পরা পেয়ারা গাছটি এতই পিচ্ছিল যে ডাল বেয়ে সানসেট টপকেও যাওয়া যাচ্ছে না। ভুলে ছাতাটাও ফেলে এসেছে বাড়ি। সব পণ্ড হল লুটুদের বাগানের জন্যে। এমনিতে বাগানভরা ফুল থাকে। রঙ্গন থোকা থোকা ফোঁটে থাকে প্রতিদিন। আর আজ একটি ফুলও নেই! সারাদিন ফুল খুঁজতেই গোলটা বাধল। ফুল যদিও পাওয়া গেল তাও একটি। পরে পাতাবাহারের তোড়ায় রঙনটি গুজে বেশ চমৎকার একটি তোড়া বানিয়ে ফেলল। তারপর সাজতেও তো একটু সময় গেল। ইস! কত শখ করেই না এই ঘি রঙা ফ্রকটা পরেছিল। বৃষ্টির ছাঁটে ফ্রকটা প্রায় ভিজেই গেল।
হুলো দাঁড়িয়ে আছে তো আছেই। কিন্ত একি! বৃষ্টি যে থামছেই না। কেক কাটা হয়ে গেলে তো আনন্দই মাটি! কেক এর কথা মনে হতেই হুলোর দুঃশ্চিন্তা বেড়ে গেল। নোখ দিয়ে মাটি খুঁটতে থাকল আর বুদ্ধি খুঁজতে লাগলো। পেয়ে গেল বুদ্ধি। ফ্রকটা খুলে লেজের ভাঁজে লুকিয়ে বৃষ্টির মধ্যে দিল ছুট। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা হুলোর গা ভিজিয়ে দিল।
অন্ধকারে দৌড়ে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো। ওমা! ছাতা নিয়ে গ্যাটের সামনে পাপাই দাঁড়িয়ে। হুলোকে দেখে সে দৌড়ে এল। হুলোর মাথার উপর ছাতা ধরল।
“হুলো ভারী দেরী হল যে তোমার? ভিজে তো চুপচুপে হয়ে গেলে ”
হুলো পাতাবাহারে রঙ্গন ফুলের তোড়াটা পাপাইয়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল ‘এই নাও। জন্মদিনের উপহার। এ বানাতেই তো দেরি হয়ে গেল। আর দুষ্টু বৃষ্টিটা নেমে এল!’
হুলো গা ঝাড়া দিয়ে লাল বৃষ্টি ঝাড়ল। এরপর লাল ফ্রকটা পরে চুলটা ঠিক করে পাপাইয়ের হাত ধরে বাড়ির ভিতর দিকে চলে গেল ।
লাল নীল হলুদ সবুজ বাহারি রঙের বেলুন দিয়ে ঘর সাজানো। দেয়ালে পাপাইয়ের একটি ছবি, পাশে লেখা হ্যাপী বার্থ ডে। এই লেখাটার ঠিক সামনেই একটি টেবিল। টেবিলে বাটিতে করে থরে থরে সাজানো খির, মিষ্টান্ন, ফুল,সবুজ ঘাস। কিন্তু কেক কই! হুলো এদিক সেদিক ঘুরে কেক খুঁজে। বসার ঘর থেকে রান্না ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজে। অতঃপর ঘুরে এসে যখন পাপাইয়ে পাশ ঘেষে দাঁড়ায়।
সবাই এসে টেবিলের সামনে জড়ো হয়েছে। পাপাইকে ঘিরে আছে সবাই। কিন্তু কেক কই? হুলো পিটপিট করে কেক এর জন্যে এদিক সেদিক তাকায়। তখনই পাপাইয়ের দাদু এল টব নিয়ে। পাপাইয়ের সামনে এনে রাখল। হুলো মনে মনে ভাবল- ওমা! এ কেমন? কেক কই? ততক্ষনে একটি চারা গাছও চলে এসেছে। পাপাইয়ের দাদু পাপাইয়ের হাতে চারাটি দিয়ে বলল ‘এই নাও দাদুভাই, তোমার সবুজ ব্যাঙ্ক মাটিতে জমা রেখে দাও।”
পাপাইয়ের ছোট ছোট আঙ্গুলগুলো জড়িয়ে দাদু টবে চারাটি গুজে দিল। সঙ্গে সঙ্গে তালি আর গান হ্যাপী বার্থডে টু ইউ….হ্যাপী বার্থডে টু ইউ..হ্যাপী বার্থডে টু ডিয়ার পাপাই……টু ইউ। হুলো পুরো বিষয়টি বুঝার আগেই ঘরে লুচি, মিষ্টান্নের গন্ধ মম করে ছড়িয়ে গেল।
2014 Powered By Wordpress, Goodnews Theme By Momizat Team