এতোকাল ধরে বুঁদ হয়ে আছি নিকোটিন, অ্যালকোহল আর আফিমের মাঝে একটার পর একটা সিগারেট ধরিয়েছি রাতের শরীরে চেপে।
রাত মানে শুধু উছলে পড়া ছাইদানি, উন্মত্ত চিৎকারে গেয়ে ওঠা বাউণ্ডুলে গান,, ফোনকলে ভেসে আসা কিছু পুরুষবাদী কণ্ঠ। কখনো একাকার কিছু নিবিড় আলাপনে, কবি হওয়ার এক অকপট চেষ্টায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার কথ্য বিসর্জন।
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই বাস্তবতার সমরে দৃঢ় বিচরণ, সকালের পাবলিক বাসে কিছু কুৎসিত লোকের সাথে বাকবিতণ্ডার ঝড় ওঠে, কখনো কখনো দু একটা থাপ্পড় মুখোশধারীদের গালে।
কখনো বা লোকে আসে কাঁদা ছিটাতে, অবশ্য এসবে আমি ঢলে পড়িনা, প্রতিমুহূর্ত জেগে ওঠে প্রতিবাদী অস্তিত্ব কথা বললেই মনে হয় গাড়ির হর্ণ বেজে উঠলো!
উর্মিলা বলে অনেকবছর নিঃসঙ্গ বলে কণ্ঠে বাজ পড়েছে, উবে গেছে প্রেমের সুর। ও অবশ্য মা নারী বলে আমায় যখন খেঁকিয়ে উঠি, শাসন করি, আবার সুযোগ বুঝে ভালোবাসি।
মাঝে মাঝে লোকে জানতে চায় প্রেমিক কেন নেই? উত্তরে বলি নিকোটিনে আমার প্রেম জমে মানুষে শরীর খেলে, তাই প্রেমিকে ঠিক জমেনা আমার।
ভালোবাসার আর মায়ার চরে আমি এখন মরীচিকা, রুক্ষতার আসনতলে জীবনের সকল খেলা, এভাবেই কাটছে আমার দিনগুলো।
কিন্তু আজ একি অবাক কাণ্ড! নিকোটিনে ধোয়া নেই, ছাইদানি টুকরো টুকরো, পড়ন্ত বিকেলে সুবোধ মেয়ের মতো বাসায় পৌছে অপেক্ষার প্রহর গুনছি- কারো কথা শুনবো বলে!
সিগারেটের বদলে ঠোঁটের কোণে উৎকণ্ঠার ছাপ আবেগের উছল ঢেউয়ে টলমল রুক্ষ এই আমি তবে কি আমি মায়ার পথে পা বাড়াচ্ছি নাকি শিকড়ের টানে?
না না না এ হতে পারেনা। আমি জন্মেছি এই পৃথিবীতে বারবার মৃত্যুর করাঘাতে রক্তাক্ত অস্তিত্ব নিয়ে ফিরে আসতে, বন্ধনের মায়াজাল উপেক্ষা করে পথকে ভালোবাসতে।
ছন্নছাড়া জীবন আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা, পথহীন পথ অবলীলায় মুছে দেয় অপ্রাপ্তির কান্না। আমার কাছে জীবন একটা নাটাইবিহীন ঘুড়ি, ইচ্ছোমতো উড়ি, ছিঁড়ি, ইচ্ছেমতো ঘুরি।
2014 Powered By Wordpress, Goodnews Theme By Momizat Team