বাবা তৎক্ষণাৎ লাইফবোট বের করে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে আদেশ দিলেন। কিন্তু মাঝিরা বলল যে ঝড়ের মধ্যে যাওয়া ঠিক হবে না। বাবা বিরক্ত হলেন এবং নিজেই লাইফবোটে চড়ে বসলেন। তখনও তারা দোনোমনো করছিল। আমাদের একজন পুরনো মুসলমান বাবুর্চি ছিল। সে তখন তাদেরকে কাপুরুষ বলে বকাবকি করতে শুরু করল এবং বাবাকে সাহায্য করতে নেমে গেল। তারা তখন লজ্জা পেয়ে তার পিছু পিছু নৌকায় উঠল এবং নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে বাবাকে হাউজবোটে ফেরত আসতে বাধ্য করল। তাদের ছোট নৌকাটি বিশাল বিশাল ঢেউ ভেঙে এগিয়ে গেল। বাবুর্চির নেতৃত্বে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে চলল। ডুবন্ত মানুষটি তখন স্রোতের টানে বহুদূর ভেসে গিয়েছে। মাঝিরা যখন তাকে তুলে নিয়ে এল তখন চারদিকে আঁধার নেমে এসেছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিটি যুবতী গৃহবধূ। বাবুর্চি বাবাকে বলল যে তারা মেয়েটিকে নৌকায় টেনে তোলার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। তাকে ছেড়ে দিতে কাকুতি-মিনতি করে। তার বোধহয় আত্মহত্যা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু দক্ষ সাঁতারু হবার ফলে জলে ডুবে প্রাণ বিসর্জন দেয়া সম্ভব ছিল না। মেয়েটি আমাদের জমিদারির এক প্রজার স্ত্রী। মেয়েটি ছিল সুন্দরী। এত অল্প বয়সেই জীবনের প্রতি তার বিতৃষ্ণা এসে যাবার জোরালো কোনো কারণ ছিল না। স্বামীটিকে ডেকে পাঠানো হল। বাবা তার সঙ্গে কথা বললেন। সে বউকে সঙ্গে নিয়ে গেল। শোনা যায় এর পর স্বামী তাকে এত আদর-যত্ন করত যে সে আর কখনও অসুখী হয়নি।